মথি
গ্রন্থস্বত্ব
মথি, এই পুস্তকটির লেখক, একজন করগ্রাহক ছিলেন, যিনি যীশুকে অনুসরণ করার উদ্দেশ্যে নিজের কাজ ছেড়ে দিয়েছিলেন। মার্ক এবং লুক তাদের পুস্তকে তাকে লেবী বলে উল্লেখ করেন। তার নামের অর্থ হলো প্রভুর বরদান। আদি মণ্ডলীর পিতাগণ সর্বসম্মতিক্রমে মথির গ্রন্থস্বত্ব র প্রতি সম্মত হয়েছিলেন, যিনি পুস্তকটির লেখক তথা 12 শিষ্যদের মধ্যে অন্যতম একজন ছিলেন। মথি যীশুর সেবাকার্য়ের ঘটনাবলির প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন। সুসমাচারের অন্যান্য বিবরণের সঙ্গে মথির তুলনামূলক অধ্যয়ন প্রমান করে যে খ্রীষ্টের প্রেরিত সম্বন্ধীয় স্বাক্ষ্য বিভক্ত হয় নি।
রচনার সময় এবং স্থান
আনুমাণিক 50 থেকে 70 খ্রিষ্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়।
মথির সুসমাচারের যিহুদীগত প্রকৃতিকে বিবেচনা করে দেখা যায়, এটা পলেষ্টিয় অথবা সুরিয়ার মধ্যে লেখা হয়ে থাকতে পারে, যদিও অনেকে মনে করেন এটার প্রকৃত উত্পত্তি আন্তিখিয়তে হয়েছে।
গ্রাহক
যেহেতু তার সুসমাচার গ্রীক ভাষায় লেখা হয়েছিল, মথির হয়ত ইচ্ছা ছিল তার পাঠক সেই ধরণের লোক হোক যারা গ্রীক-ভাষী যিহুদী সম্প্রদায় থেকে হচ্ছে। বহু উপাদানগুলো যিহুদীগত পাঠককুলের প্রতি ইঙ্গিত করে। মথির পুরোনো নিয়মের পরিপূর্ণতার চিন্তা; আব্রাহাম থেকে যীশুর বংশ সম্বন্ধে তার অনুসন্ধান (1:1, 17), তার যিহুদীগত পরিভাষার ব্যবহার যেমন স্বর্গ রাজ্য, যেখানে স্বর্গ ঈশ্বরের নাম ব্যবহার করতে যিহুদীগত শিথিলতাকে প্রকাশ করে; এবং যীশুকে দাউদের পুত্র রূপে তার গুরুত্ব প্রদান (1:1; 9:27; 12:23; 15:22; 20:30-31; 21:9, 15; 22:41, 45) সংকেত দেয় যে মথির ধ্যান অত্যধিক রূপে যিহুদী সম্প্রদায়ের ওপরে কেন্দ্রিত ছিল।
উদ্দেশ্য
মথি যখন এই সুসমাচার লিখছিলেন তখন যিহুদীগত পাঠকদের প্রতি তার অভিপ্রেত ছিল যীশুকে মসীহা রূপে সুনিশ্চিত করা। এখানে মানব জাতির নিকট ঈশ্বরের রাজ্যকে নিয়ে আসার জন্য নিশ্চিত করে বলার প্রতি ধ্যান ছিল। তিনি যীশুকে রাজা বলার ওপরে জোর দেন যিনি পুরোনো নিয়মের ভবিষ্যদ্বাণী এবং আশা সমূহকে পরিপূর্ণ করেন। (মথি 1:1; 16:16; 20:28)
বিষয়
যীশু–ইহুদীদের রাজা
রূপরেখা
1. যীশুর জন্ম বৃত্তান্ত — 1:1-2:23
2. যীশুর গালিলীয় সেবাকার্য্য — 3:1-18:35
3. যীশুর যিহুদার সেবাকার্য্য — 19:1-20:34
4. যিহুদায় শেষ দিন গুলো — 21:1-27:66
5. উপসংহারের ঘটনাবলী — 28:1-20