দায়ূদের কাছে ঈশ্বরের শপথ৷
7
পরে রাজা যখন নিজের ঘরে বাস করতে লাগলেন এবং সদাপ্রভু চারিদিকের সব শত্রুর থেকে তাঁকে বিশ্রাম দিলেন,
2 তখন রাজা নাথন ভাববাদীকে বললেন,
“দেখুন,
আমি এরস কাঠের ঘরে বাস করছি,
কিন্তু ঈশ্বরের সিন্দুক যবনিকার মধ্যে বাস করছে৷”
3 নাথন রাজাকে বললেন,
“ভালো,
যা কিছু আপনার মনে আছে,
তাই করুন;
কারণ সদাপ্রভু আপনার সহবর্ত্তী৷”
4 কিন্তু সেই রাতে সদাপ্রভুর এই বাক্য নাথনের কাছে উপস্থিত হল,
5 “তুমি যাও,
আমার দাস দায়ূদকে বল,
সদাপ্রভু এই কথা বলেন,
‘তুমি কি আমার বসবাসের জন্য ঘর তৈরী করবে?’
6 ইস্রায়েল সন্তানদের মিশর থেকে বের করে আনার দিন থেকে আজ পর্যন্ত আমি তো কোন ঘরে বসবাস করিনি,
শুধু তাঁবুতে ও পবিত্র স্থানে থেকে যাতায়াত করেছি৷
7 সমস্ত ইস্রায়েল সন্তানদের মধ্যে আমার যাওয়া আসার দিন আমি যাকে নিজের প্রজা ইস্রায়েলকে পালন করার দায়িত্ব দিয়েছিলাম,
ইস্রায়েলের এমন কোনো বংশকে কি কখনও এই কথা বলেছি যে,
তোমরা কেন আমার জন্য এরস কাঠের ঘর তৈরী কর নি?
8 অতএব এখন তুমি আমার দাস দায়ূদকে এই কথা বল,
‘বাহিনীগণের সদাপ্রভু এই কথা বলেন,
আমার প্রজার উপরে,
ইস্রায়েলের উপরে শাসক করার জন্য আমিই তোমাকে পশু চরাবার মাঠ থেকে ও ভেড়া চরানোর দিন গ্রহণ করেছি৷
9 আর তুমি যে কোনো জায়গায় গেছ,
সেই জায়গায় তোমার সহবর্ত্তী থেকে তোমার সামনে থেকে তোমার সব শত্রুকে ধ্বংস করেছি৷ আর আমি পৃথিবীর মহাপুরুষদের নামের মত তোমার নাম মহান করব৷
10 আর আমি নিজের প্রজা ইস্রায়েলের জন্য একটি জায়গা নির্বাচন করব ও তাদেরকে রোপণ করব;
যেন নিজেদের সেই জায়গায় তারা বসবাস করে এবং আর বিচলিত না হয়৷ দুষ্ট লোকেরা তাদেরকে আর দুঃখ দেবে না,
যেমন আগে দিত
11 এবং যখন থেকে আমি নিজের প্রজা ইস্রায়েলের উপরে বিচারকর্তাদেরকে নিযুক্ত করেছিলাম,
তখন পর্যন্ত যেমন দিত৷ আর আমি যাবতীয় শত্রুর থেকে তোমাকে বিশ্রাম দেব৷’ আরও সদাপ্রভু তোমাকে বলছেন যে,
‘তোমার জন্য সদাপ্রভু এক বংaশ তৈরী করবেন৷
12 তোমার দিন সম্পূর্ণ হলে যখন তুমি নিজের পূর্বপুরুষদের সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়বে,
তখন আমি তোমার পরে তোমার বংশকে,
যে তোমার ঔরসে জন্মাবে তাকে স্থাপন করব এবং তার রাজ্য প্রতিষ্ঠা করব৷
13 আমার নামের জন্য সে এক ঘর তৈরী করবে এবং আমি তার রাজসিংহাসন চিরস্থায়ী করব৷
14 আমি তার বাবা হব ও সে আমার ছেলে হবে;
সে অপরাধ করলে আমি লোকেদের শাস্তি ও মানব-সন্তানদের বেত দিয়ে আঘাত করে তাকে শাস্তি দেব৷
15 কিন্তু আমি তোমার সামনে থেকে যাকে দূর করলাম,
সেই শৌল থেকে আমি যেমন নিজের দয়া সরিয়ে নিলাম,
তেমনি আমার দয়া তার থেকে দূরে যাবে না৷
16 আর তোমার বংশ ও তোমার রাজত্ব তোমার সামনে চিরকাল স্থির থাকবে;
তোমার সিংহাসন চিরকাল স্থায়ী হবে৷’”
17 নাথন দায়ূদকে এই সব বাক্য অনুসারে ও এই সব দর্শন অনুসারে কথা বললেন৷
দায়ূদের প্রার্থনা৷
18 তখন দায়ূদ রাজা ভিতরে গিয়ে সদাপ্রভুর সামনে বসলেন,
আর বললেন,
“হে প্রভু সদাপ্রভু,
আমি কে,
আমার বংশই বা কি যে,
তুমি আমাকে এ পর্যন্ত এনেছ?
19 আর হে প্রভু সদাপ্রভু,
তোমার চোখে এটাও ছোট বিষয় হল;
তুমি নিজের দাসের বংশের বিষয়েও ভবিষ্যতের জন্য কথা বললে;
হে প্রভু সদাপ্রভু,
এটা কি মানুষের নিয়ম?
20 আর দায়ূদ তোমাকে আর কি বলবে?
হে প্রভু সদাপ্রভু,
তুমি তো নিজের দাসকে জানো৷
21 তোমার কথার অনুরোধে ও তোমার হৃদয় অনুসারে এই সমস্ত মহান কাজ সম্পন্ন করে নিজের দাসকে জানিয়েছ৷
22 অতএব,
হে সদাপ্রভু ঈশ্বর,
তুমি মহান;
কারণ তোমার মত কেউ নেই ও তুমি ছাড়া কোন ঈশ্বর নেই;
আমার নিজের কানে যা যা শুনেছি,
সেই অনুযায়ী এটা জানি৷
23 পৃথিবীর মধ্যে কোন একটি জাতি তোমার প্রজা ইস্রায়েলের মত?
ঈশ্বর তাকে নিজের প্রজা করার জন্য এবং নিজের নাম প্রতিষ্ঠিত করার জন্য মুক্ত করতে গিয়েছিলেন,
তুমি আমাদের পক্ষে মহান মহান কাজ ও তোমার দেশের হয়ে ভয়ঙ্কর ভয়ঙ্কর কাজ তোমার প্রজাদের সামনে সম্পন্ন করেছিলে,
তাদেরকে তুমি মিশর,
জাতিদের ও দেবতাদের থেকে মুক্ত করেছিলে৷
24 তুমি তোমার জন্য নিজের প্রজা ইস্রায়েলকে স্থাপন করে চিরকালের জন্য তোমার প্রজা করেছ;
আর হে সদাপ্রভু,
তুমি তাদের ঈশ্বর হয়েছ৷
25 এখন হে সদাপ্রভু ঈশ্বর,
তুমি নিজের দাসের ও তার বংশের বিষয়ে যে বাক্য বলেছ,
তা চিরকালের জন্য স্থির কর;
যেমন বলেছ,
সেই অনুসারে কর৷
26 তোমার নাম চিরকাল মহিমান্বিত হোক;
লোকে বলুক,
‘বাহিনীগণের সদাপ্রভুই ইস্রায়েলের উপরে ঈশ্বর;
আর তোমার দাস দায়ূদের বংশ তোমার সামনে প্রতিষ্ঠিত হবে৷’
27 হে বাহিনীগণের সদাপ্রভু,
ইস্রায়েলের ঈশ্বর,
তুমিই নিজের দাসের কাছে প্রকাশ করেছ,
বলেছ,
‘আমি তোমার জন্য এক বংশ তৈরী করব,’
এই কারণ তোমার কাছে এই প্রার্থনা করতে তোমার দাসের মনে সাহস জন্মালো৷
28 আর এখন,
হে প্রভু সদাপ্রভু,
তুমিই ঈশ্বর,
তোমার বাক্য সত্য,
আর তুমি নিজের দাসের কাছে এই মঙ্গল শপথ করেছ৷
29 অতএব দয়া করে তোমার দাসের বংশকে আশীর্বাদ কর,
তা যেন তোমার সামনে চিরকাল থাকে৷ কারণ হে প্রভু সদাপ্রভু,
তুমি নিজে এটা বলেছ;
আর তোমার আশীর্বাদে তোমার এই দাসের বংশ চিরকাল আশীর্বাদপ্রাপ্ত থাকুক৷”